Friday, February 22, 2019
Saturday, April 29, 2017
নাচ বাঙালি
কলকাতায় একটা বোরো হকি টুর্নামেন্ট আয়োজিত হতো নাম বেটন কাপ | ইস্ট বেঙ্গল মহান বাগান মোহামেডান আরিয়ান কালীঘাট সব ক্লাবের ফুটবল ক্রিকেটের সাথে হকি টীম থাকতো | ১৮৯৫ থেকে বেটন কাপ শুরু হয় ধ্যানচাঁদ রূপচাঁদ রায় এই টুর্নামেন্ট খেলে গেছে | লেসলি ক্লাউডিউস এর মতো প্লেয়ার রা কোলকাতাতে খেলতো, কাস্টমস এর হয় | কেশব দত্ত, গুরবক্স সিংহ , টেনিস তারকা লেন্ডার পেস এর বাবা ভেস পেস , পঙ্কজ গুপ্ত এই সব প্রবাদ প্রতিম নাম কলকাতা থেকে উঠে এসেছে | আজ এই টুর্নামেন্ট তাই আর নেই | কোলকাতাতে আর কোনো হকি প্লেয়ার উঠে আসে না | গুরবক্স সিংহ কিছু চোখের জল ফেলেছিলো | কিন্তু কারুর খুব বেশি হেল দোল দেখি নি | ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন কিছু সুইমার, ওয়েইট লিফটার , টেবিল টেনিস তারকা বাংলা ছেড়ে অন্য রাজ্যের হয়ে খেলে | বাকি কিছু প্লেয়ার ঘর চালানোর জন্যে খেলা ছেড়ে লোকের বাড়িতে বাসন পর্যন্ত মাজে | কি করবে দৈনতা বোরো ভয়ানক জিনিস | নিজের এবং বাড়ির লোকের পেট চালানোর জন্যে স্বপ্নের বলি দিতে হয় | কলকাতার বুকে এক সময়ে বহু কুস্তির আক্রা ছিল আজ আর নেই মাল্টি জিম কিছু আছে কিন্তু মনোহর এইচ রা আর জন্মায় না | কারুর খুব বেশি দুঃখ দেখিনি | না খেতে পেয়ে মরা যেখানে রোজকার বিষয় সেখানে গায়ে চাদর থাকলো কিনা তা নিয়ে কে বা মাথা ঘামায় | কিন্তু গায়ে তখন লাগে যখন পেট এ ভাত নেই কিন্তু লোকে মদ খাওয়া নিয়ে সওয়াল করে | আজ সব থেকে বোরো খেলা হলো ক্রিকেট আর সব থেকে বোরো টীম KKR যাকে সাপোর্ট না করলে কাকা কে বাবা বলা হয় | এই পোস্ট কারি রাই হলো এমন লোক যারা বাবা কে বেঁচে টিভি কিনে খেলা দেখে | লুঙ্গি নাচ নাচা বাঙালি রা লুঙ্গি তাও খুলে ফেলো | কারণ এখন তো জো দিখতা হাইন বহি বিকতা হাইন | বাঙালি সংস্কৃতি সব মা গঙ্গা তে বিসর্জন হয়ে গেছে|
পূর্ববঙ্গ ছাড়া ফুটবল কোথায়
সন্তোষ ট্রফি স্টেট লেভেলে ইন্ডিয়ার সব থেকে বোরো প্রতিযোগিতা | এক সময়ে বহু ভালো খেলোয়াড় উঠে এসেছে এই প্রতিযোগিতা থেকে | বাংলার বরাবরই এই প্রতিযোগিতায় একটা আধিপত্য ছিল | মুম্বাই যেরকম ভারতের ক্রিকেটের পীঠস্থান সেরকম এ বাংলা ভারতের ফুটবলের জেরুসালেম | ১৮৮৬ সালে মুম্বাইয়ের পারসী জিমখানা ক্লাব প্রথম ভারতীয় ক্রিকেট ক্লাব হিসাবে বিদেশি ক্লাবকে হারায়ে | তার কিছু বছরের মধ্যেই বাংলার শোভাবাজার এথেলেটিক ক্লাব ১৮৯০ সালে প্রথম ভারতীয় ফুটবল দল হিসাবে বিদেশি টিমকে হারিয়ে ট্রেড কাপ জেতে | এভাবেই ক্রিকেটে মুম্বাইএর পার্সিরা রা ফুটবল এ বাংলা ব্রিটিশদের চালাঞ্জ ছুড়ে দিতে থাকে | এই খেলার মধ্যেও একটা সংগ্রাম গড়ে ওঠে | এরপর ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জণর কুখ্যাত বঙ্গ ভঙ্গ যেটা পরিস্থিতির চাপে পোরে ১৯১১ সালে ফিরিয়ে নিতে হয় | ১৯২০ সালে বিভিন্ন পরিস্তিতির মধ্যে দিয়ে জোড়াবাগান এথেলেটিক ক্লাব ভেঙে তৈরী হয় ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব | ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হয় এবং ভারত তথা বাংলার বিভাজন ঘটে |
এবার ফুটবলে ফেরা যাক | ইস্ট বেঙ্গল নাম তা অনেকেই বলেন একটা কম্যুনাল নাম কারণ এটা বিশেষ একটা জায়গাকে রিপ্রেসেন্ট করে | কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকের জানা নেই যে আজকের জৌলুশ হীন একসময়ের মহার্ঘ সন্তোষ ট্রফিটি আসলে বাংলাদেশ র অন্তর্গত একটি জায়গার নাম অনুসারে | ইস্ট বেঙ্গল কো-ফাউন্ডার রাজা মন্মথ নাথ চৌধুরী সন্তোষ এ থাকতেন | তার ভারতীয় ফুটবলের প্রতি কন্টিবিউশনকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্যেই সন্তোষ ট্রফির নামকরণ | সুতরাং ভারতীয় ফুটবলে অন্তরঙ্গ ভাবে পূর্ববাংলা জড়িত তাই যারা ইস্ট বেঙ্গল নাম তা শুনে একটু নাক সিটকান তারা ভারতীয় ফুটবল তাকেই কম্যুনাল ভাবতে পারেন |
Subscribe to:
Comments (Atom)
